দীপাবলি ২০২৫ শুধু আলোর উৎসব নয়, এক অর্থনৈতিক উৎসবও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
“Dead Economy”
মন্তব্য এবং বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর তাতে সংসদে দাঁড়িয়ে সমর্থন সত্ত্বেও, ভারতের বাজারে যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেল, তা এক কথায় অভূতপূর্ব। “কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স” (CAIT)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি দীপাবলিতে দেশজুড়ে ৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা হয়েছে।
🛍️ দীপাবলির কেনাকাটার খতিয়ান
• ধনতেরাসে একদিনেই কেনাকাটা: ₹১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি, যার মধ্যে সোনা ও রূপার বিক্রি ₹৬০,০০০ কোটি ছাড়িয়েছে।
• দিল্লি শহরে সোনার বাজারে বিক্রি: ₹১০,০০০ কোটি, যা গত বছরের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি।
• সোনার দাম: প্রতি ১০ গ্রামে ₹৮০,০০০ থেকে বেড়ে ₹১,৩০,০০০ — ৬০% বৃদ্ধি।
• রূপার দাম: প্রতি কেজিতে ₹৯৮,০০০ থেকে বেড়ে ₹১,৮০,০০০ — ৫৫% বৃদ্ধি।
•
🏬 অফলাইন বনাম অনলাইন: কারা এগিয়ে?
• অফলাইন বাজারে উত্থান: CAIT জানিয়েছে, এই বছর দীপাবলিতে অফলাইন বিক্রি ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসা ও কারিগরদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
• অনলাইন কেনাকাটার চিত্র: যদিও কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন বিক্রি কমেছে, তবুও টিয়ার ৩ শহরগুলি অনলাইন কেনাকাটায় ৫০% অবদান রেখেছে, যা “ডিজিটাল ইন্ডিয়া”র অগ্রগতির ইঙ্গিত।
📈 অর্থনীতির বার্তা: “Bullish India”
এই দীপাবলিতে ভারতের অর্থনীতিতে দেশের মানুষের একটা সদর্থক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে। GST কমা, “Vocal for Local” প্রচার, ‘ওএনডিসি’ এবং ক্রেতাদের আত্মবিশ্বাস — সব মিলিয়ে বাজারে liquidity বৃদ্ধি পেয়েছে। CAIT-এর মতে, এটি স্বাধীনতার পর ভারতের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক উৎসব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
🎨 সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সংহতি
দীপাবলি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সংহতির প্রতীক। সোনা-রূপা, বাসনপত্র, ইলেকট্রনিক্স, পোশাক, ফল-মূল, পূজার সামগ্রী — সবকিছুতেই বিক্রির উল্লাস। এই উৎসব প্রমাণ করে, ভারতীয় বাজারে এখনও ভোক্তাদের আস্থা অটুট, এবং তারা বিনিয়োগ ও খরচে পিছপা নন।
“Dead Economy” নয়, দীপাবলি ২০২৫ দেখিয়ে দিল — ভারতীয় অর্থনীতি জীবন্ত, উদ্যমী এবং আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ছোট ব্যবসাইয়ীদের সাফল্য, ডিজিটাল মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্রি, মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও জনসাধারণের চাহিদা — সব মিলিয়ে এটি এক সফল ভারতের প্রতিচ্ছবিই তুলে ধরছে।





Leave a Reply