Bengali News Express

সংবাদ। সংস্কৃতি। বাঙালিয়ানা

Heist at Paris Louvre Museum: শতাব্দীর সেরা রোমহর্ষক চুরির ঘটনা!

Heist at the Louvre

ইতিহাসকে শুধু সংরক্ষণ করলেই হয় না, তাকে রক্ষা করাও জরুরি। প্যারিসের লুভর জাদুঘর—যেখানে শিল্পের নিঃশব্দ সৌন্দর্য আর ইতিহাসের গম্ভীরতা একসাথে শ্বাস নেয়। সেই জাদুঘরেই ঘটল এমন এক ঘটনা, যা শুধু ফ্রান্স নয়, গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ শে অক্টোবর, রবিবার সকালে, জাদুঘর খোলার আধঘণ্টার মধ্যেই ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব চুরি। মাত্র চার মিনিটে চুরি হয়ে গেল আটটি নেপোলিয়নিক যুগের মূল্যবান রত্ন।

চারজন চোর এসেছিল। তারা জাদুঘরের বাইরের দেয়াল বেয়ে একটি বাস্কেট লিফটের সাহায্যে উপরে উঠে জানালা ভেঙে ঢুকে পড়ে। তারপর একে একে ভেঙে ফেলে প্রদর্শনীর কাচের বাক্সগুলো। সংবাদ সংস্থা AFP -ও বিশ্বস্ত স্থানীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মিউজিয়াম থেকে কিছু গয়নাও চুরি গিয়েছে। চুরি হয় সেই রত্ন, যা একসময় রানী মারি-আমেলি ও রানী হর্টেন্স পরতেন—নীলকান্তমণি, হীরা, পান্না দিয়ে সাজানো টায়ারা, কণ্ঠহার, কানের দুল।

 

    এই চুরির স্থান?

মোনা লিসার থেকে মাত্র ২৫০ মিটার দূরে। যেন ইতিহাসের চোখের সামনেই ঘটে গেল এক দুঃসাহসিক নাটক। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে বললেন, “আমাদের ঐতিহ্যের উপর আক্রমণ”! ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রী রচিদা দাতি বলেন, “আজ সকালে লুভ্‌র মিউজিয়াম খোলার পর সেখানে ডাকাতি হয়েছে। কারো আহত হবার খবর নেই। আমি মিউজিয়ামে পুলিশের সঙ্গে রয়েছি’।

 

🖼️ কেন এই ঘটনা বাংলার পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, কৃষ্ণনগর—এই শহরগুলোও একসময় শিল্প ও রত্নের গর্বে ভরপুর ছিল। বাংলার রাজবাড়িগুলোর গোপন ঘরে আজও হয়তো লুকিয়ে আছে এমন কিছু ইতিহাস, যা বিশ্ব জানে না। লুভরের এই চুরি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাসের রত্ন শুধু প্রদর্শনী নয়—এরা আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ।

🧿 চুরি হওয়া মূল্যবান রত্ন ও সামগ্রী

💎 নীলকান্তমণি ও হীরার টায়ারা — রানী মারি-আমেলির ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে, নেপোলিয়নিক যুগের ঐতিহ্য বহন করে।
👑 পান্না ও হীরার কণ্ঠহার — রাজকীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত, ফরাসি রাজপরিবারের স্মৃতিচিহ্ন।
💍 রানী হর্টেন্সের হীরার আংটি — নেপোলিয়নের সৎমেয়ের সংগ্রহ থেকে, ঐতিহাসিক ও পারিবারিক মূল্যবোধে ভরপুর।
🧵 সোনার অলঙ্কারে খচিত চুলের ক্লিপ — হাতে তৈরি, ১৮শ শতকের ফরাসি নারীদের সাজসজ্জার অংশ।
👠 রানীর ব্যক্তিগত অলঙ্কার বাক্স — যার মধ্যে ছিল ছোট হীরার দুল, ব্রোচ, ও সোনার চেইন।
🕊️ রাজকীয় সিলমোহর খচিত ব্রোচ — ফরাসি রাজপরিবারের প্রতীক বহনকারী, ঐতিহাসিক দলিলের অংশ।
🧿 হীরার নেকলেস — বিশেষ অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত, যার মূল্য কয়েক কোটি ইউরো।
💫 পান্না ও রুবির কানের দুল — ফরাসি শিল্পকলার নিদর্শন, হাতে তৈরি অলঙ্কার।

এই রত্নগুলো শুধু মূল্যবান নয়, এরা ফ্রান্সের ইতিহাস, রাজনীতি, এবং শিল্পের নিদর্শন। চুরির ঘটনাটি তাই শুধু একটি অপরাধ নয় — এটি এক সাংস্কৃতিক ক্ষতি।

🔍 তদন্ত চলছে, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে
• কীভাবে এত বড় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও এমন চুরি সম্ভব?
• চোরেরা কি অভ্যন্তরীণ তথ্য পেয়েছিল?
• এই চুরি কি শুধুই অর্থের জন্য, না এর পেছনে আছে রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক বার্তা?

৬০ জন তদন্তকারী এখন খুঁজে চলেছেন এই উত্তরগুলি ও সেই চারজনকে, যারা ইতিহাসের গায়ে দাগ কেটে পালিয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *